Sunday February 2026

হটলাইন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৭:০০ AM

ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি

কন্টেন্ট: পাতা

ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি


প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩ লক্ষ লোক এ সমস্ত রোগে মৃত্যুবরণ করে এবং ৩ লক্ষাধিক লোক ক্যান্সার, কিডনি , লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থের অভাবে এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা যেমনি ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়, তেমনি তার পরিবার চিকিৎসার ব্যয় বহন করে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে এ সকল অসহায় ক্যান্সার, কিডনি এবং লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীদেরকে এককালীন ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় এ কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংজ্ঞা


. ক্যান্সার

বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্যা ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায়। এ পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারণভাবে কোষগুলো; নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। সহজভাবে বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনো কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বেনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিয়োপ্লসিয়া (টিউমার) বলে এবং এই নিয়োপ্লসিয়ার ম্যালিগন্যান্ট রূপকে ক্যান্সার বলে।


. কিডনি রোগ

কিডনি যখন তার কার্যক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হারাতে থাকে তখন শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যদি কিডনি রোগ বেশি বেড়ে যায় তখন রক্তে দুষিত পদার্থ বাড়তে থাকে এবং অসুস্থবোধ হতে থাকে। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, অ্যানিমিয়া (লাল রক্ত কনিকার স্বল্পতা), হাড় দুর্বলতা, পুষ্টিহীনতা, স্নায়বিক ক্ষতিগ্রস্ততা দেখা দিতে পারে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগ বৃদ্ধি করতে পারে। এসব রোগ এবং রোগের বৃদ্ধি ঘটতে থাকে ধীরগতিতে এবং অনেক দিন ধরে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য মেটাবলিক ডিসঅর্ডারের কারণে ক্রনিক কিডনি রোগ হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্নয় এবং চিকিৎসা করালে রোগ নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ বা আরো খারাপ হওয়ার দ্রুততাকে ধীরগতিসম্পন্ন করা যায়। যদি রোগ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে তখন কৃত্রিম উপায়ে অর্থাৎ ডায়ালাইসিস পদ্ধতিতে রক্ত পরিশুদ্ধের ব্যবস্থা করতে হয় এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা যেতে পারে।


. লিভার সিরোসিস

সিরোসিস লিভারের একটি ক্রনিক রোগ, যাতে লিভারের সাধারণ আর্কিটেকচার নষ্ট হয়ে লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। অনেক ক্ষেত্রেই লিভার সিরোসিস থেকে লিভারে ক্যান্সারও দেখা দিতে পারে।


. স্ট্রোকে প্যারালাইজড

হঠাৎ করে শরীরের যেকোন অংশের কর্মক্ষমতা হ্রাস অথবা পক্ষাঘাত হওয়া যা ২৪ ঘন্টার বেশী সময় ধরে থাকবে এবং যা মস্তিষ্কের রক্তনালীর জটিলতার কারণে সৃষ্ট (Stroke may be defined as sudden Neurological deficit which persist for 24 hrs or patient may die within 24 hrs which is non traumatic vascular origin)।


. জন্মগত হৃদরোগ

জন্মের সময়ই শিশুর হৃদপিন্ডে বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি (ডেভেলপমেন্টাল এ্যানোমালি) থাকতে পারে। এর মধ্যে হৃদপিন্ডের মধ্যে ছিদ্র (অ্যাট্রিয়াল সেপটাল ডিফেক্ট, ভেন্ট্রিকুলার, সেপটাল ডিফেক্ট), ট্রেটালজী অফ ফ্যালট, প্যাটেন্ট ডাক্টাস আর্টারিওসাস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই সব জন্মগত হৃদরোগের ত্রুটির কারণে একদিকে যেমন শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়, তেমনি ধীরে ধীরে এই ত্রুটিসমূহ অনিরাময়যোগ্য হয়ে যায়। যার পরিণাম নিশ্চিত মৃত্যু। অনিরাময়যোগ্য হওয়ার পূর্বে যদি যথাযথ চিকিৎসা যেমন-কার্ডিয়াক সার্জারী বা ডিভাইসক্লোজার করা যায় তবে রোগীরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন লাভ করতে পারে।


. থ্যালাসেমিয়া

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবসাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি ঘটতে পারে। থ্যালাসেমিয়া দুইটি প্রধান ধরনের হতে পারে: আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বেটা থ্যালাসেমিয়া। সাধারণভাবে আলফা থ্যালাসেমিয়া বেটা থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়াবিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির হয়। অন্যদিকে বেটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি; এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমত চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা ফ্যাকাসে ও দুর্বলতা প্রকাশ পায় এবং শারীরিক বৃদ্ধি কমে যায়। প্লীহা বড় হয়ে পেট ফুলে যায়। অস্থি চওড়া হয়ে বিকৃত আকার ধারন করে এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। থ্যালাসেমিয়া মেজরে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন প্রধান চিকিৎসা। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থ্যালাসেমিয়ার একটি কার্যকরী চিকিৎসা। থ্যালাসেমিয়া নিরাময়যোগ্য। তবে যেহেতু এটি একটি জন্মগত সমস্যা, যদি তার জিনগত সমস্যাকে পরিবর্তন করা না হয়, অর্থাৎ যে অঙ্গ দিয়ে সমস্যাযুক্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হচ্ছে, সে অঙ্গ মানে বোনমেরু (অস্থিমজ্জা), এটাকে যদি অস্থিমজ্জা সংযোজনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায়, তাহলে একে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।


ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমীয়া রোগীর আবেদন পত্র গ্রহনের স্পষ্টীকরণ:


*নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে আবেদন করতে হবে *


১। আবেদন করার পূর্বে ব্যক্তিকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে তিনি সংশ্লিষ্ট রোগী, নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন করবেন। কারণ অনলাইনে আবেদনের সময় নিজের অথবা পরিবারের একটি সোনালী ব্যাংক হিসাবে সঠিকভাবে আবেদন করতে হবে।

*আবেদনকারীর (স্বাক্ষরকারীর) নামে সোনালী ব্যাংক হিসাব হতে হবে, শিশুর ক্ষেত্রে (১৮ বছরের কম হলে) আবেদকারীর পিতা/মাতা (বৈধ অভিভাবক) এর নামে (বেদনকারীর স্বাক্ষরকারীর) নামে সোনালী ব্যাংক হিসাব হতে হবে*

০১। ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোটে সত্যায়িত নাই।

০২। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রত্যয়ন নাই (বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ব্যতিত অন্য কোন ডাক্তারের প্রতয়ন গ্রহন করা যাবেনা।

০৩। সংশ্লিষ্ট রোগের টেষ্ট রিপোর্ট সংযুক্ত করতে হবে।

০৪। রোগীর আবেদনের স্বাক্ষর নাই। অনলাইন আবেদনে রোগীর স্বাক্ষর/টিপসহি দিতে হবে।

০৫। রোগীর নামে ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে, সন্তান স্বামী/স্ত্রীর বা পরিবারের অন্যকারো নামে ব্যাংক হিসাব গ্রহণ করা হয় না। শিশুর ক্ষেত্রে পিতা/মাতা (বৈধ অভিভাবক) নমীনি হবেন এব্ং আবেদনে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব হবে।

০৬। জাতীয় পরিচয়পত্র/স্মাট জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন (অনলাইন) এবং সংশ্লিষ্ট রোগের পরীক্ষার রিপোট যথাক্রমে আবেদনের ১ থেকে ৬ ও ৭ পৃষ্টায় থাকবে।

০৭। উপজেলা/ইউসিডি কার্যালয়ে যিনি আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন তার স্পষ্ট নাম ও স্বাক্ষর আবেদনপত্রের উপর থাকতে হবে (তার দায়বদ্ধতা থাকবে)।

০৮। আবেদনপত্র অবশ্যই অনলাইন হতে হবে।

০৯। উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন গ্রহণ করার সময় অবশ্যই মূলকপি দেখবেন এবং আবেদনের উপর লিখবেন মূলকপি দেখা হয়েছে গ্রহণকারী সেখানে স্পষ্ট নাম ও স্বাক্ষর করবেন।

১০। রোগীর বয়স পেশা এবং আবেদনের তারিখ পুরণ করা বাধ্যতামুলক/অবশ্যই পুরণ করতে হবে।

১১। সমাজসেবা কর্তৃক পূর্বে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে নাই মর্মে প্রত্যয়নে স্বাক্ষর অবশ্যই দিতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রত্যয়ন ও কোন রোগের কি রিপোর্ট সংযুক্ত করতে হবে:


No

Types of Doctors (ডাক্তারের ধরণ)

Specialist Doctor (বিশেষজ্ঞ ডাক্তার)

Disease (রোগ)

Required Report (প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন)

01

Doctor of Liver

Hematologist

Liver cirrhosis

Liver Ultrasonogram/Ultrasonogram Of holl Abdomine

02

Doctor Cancer

Oncologist

Cancer

Histopathology/ Cytopahtology /Bone Marrow Report/ Radiology/ FNAC /Sergical Pahology report Or Other report

Doctor of Bones

Orthopedist/Hematologist

Doctor imaging diagnosis/MRI

Radiologist

03

Doctor of Kidney

Nephrologists

Kidney

Acute Renal Failure/Chronic Renal Failure, Blood urea and Serum creatinine levels above 5 & Urea above 6

04

Doctor of Heart

Cardiologist

Heart disease

Echo Cardiogram

05

Doctor of Brain/MRI/spinal Cord

Neurologists

Brain

MRI/CT Scan Of Brain

06

Doctor of Thalassemia

Hematologist

Thalassemia

Hemoglobin Electrophoresis

Doctor of Thalassemia

Pediatrician


লক্ষ্য উদ্দেশ্য:

ক) ক্যান্সার, কিডনি , লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান;

খ) আক্রান্ত রোগীর পরিবারের ব্যয়ভার বহনে সহায়তা করা;

গ) সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা।



কর্মসূচি বাস্তবায়ন কৌশল

ক্যান্সার, কিডনি , লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীদের সনাক্ত করে সমাজসেবা অধিদফতরের জনবল, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সহযোগীতায় এ নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকৃত দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।


কার্য এলাকা

ক্যান্সার, কিডনি , লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে কার্য এলাকা বলতে সমগ্র বাংলাদেশকে বোঝাবে।


আর্থিক সহায়তা/ অনুদানের পরিমাণ

ক্যান্সার, কিডনি , লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত নির্বাচিত প্রত্যেক গরীব রোগীকে এককালীন ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করা হবে। আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি/হ্রাসের ক্ষমতা সরকার সংরক্ষণ করবে।

অনলাইনে আবেদন লিংক: এখানে ক্লিক করুন

ডাক্তারের প্রত্যয়নপত্র ভেরিফাই করতে: এখানে ক্লিক করুন

প্রার্থী নির্বাচনের মানদন্ড

() নাগরিকত্ব: প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

() দুঃস্থ: সর্বোচ্চ দুঃস্থ ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।

() আর্থ-সামাজিক অবস্থা:

১. আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে: শিশু, নিঃস্ব, উদ্বাস্ত্ত ও ভূমিহীনকে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

. সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে: বয়োজ্যেষ্ঠ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বিপত্নীক, নিঃসন্তান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদেরকে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

(ঘ) ভূমির মালিকানা: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমিহীন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বসতবাড়ী ব্যতিত কোন ব্যক্তির জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম হলে তিনি ভূমিহীন বলে গণ্য হবেন।


আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির যোগ্যতা শর্তাবলী:

১. ক্যান্সার, কিডনি এবং লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়িত হতে হবে;


২. সংশ্লিষ্ট রোগের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ও টেস্ট রিপোর্ট থাকতে হবে;

যেমন-ক্যান্সারের ক্ষেত্রে Biopsy বা অন্যান্য টেস্ট রিপোর্ট থাকতে হবে এবং কিডনি রোগের ক্ষেত্রে; Acute Renal Failure অথবা Chronic Renal Failure এ আক্রান্ত ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছে এমন রোগীদেরকে বিবেচনা করতে হবে। তবে;যে সকল এলাকায় ডায়ালাইসিস সেবা নেয়ার সুযোগ নেই, সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক রোগের স্বপক্ষে প্রত্যয়ন গ্রহণ সাপেক্ষে এ সাহায্য প্রদান করা যাবে।


৩. জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম সনদ (১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি) থাকতে হবে;


৪. বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে।


প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া:

১. উপপরিচালকগণ ক্যান্সার, কিডনি , লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রাপ্ত আবেদনের আলোকে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে জেলা কমিটিতে পেশ করবেন।


২. সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক তার জেলাধীন আবেদনকারী ক্যান্সার, কিডনি , লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যোগ্য ও অযোগ্য ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সম্বলিত দুটি পৃথক তালিকা ও রেজিষ্টার সংরক্ষণ করবেন।


৩. উক্ত তালিকা এবং প্রাপ্ত আবেদনসমূহ জেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে এবং বাস্তবায়ন কমিটি আবেদনপত্রসমূহ যাচাই বাছাই করে আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির যোগ্য একাটি তালিকা (আনুষাংগিক কাগজপত্রসহ) অনুমোদনক্রমে চেক বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


বিভিন্ন রোগের ধরণ/জীবাণুর নাম

০১। ক্যান্সার (Cancer)


হাড় ও পেশীর সারকোমা ক্যান্সার:

পার্থক্যকারী প্লোমরফিক সারকোমা বা ম্যালিগন্যান্ট ফাইব্রোস হিস্টিওসাইটোমা (পূর্বনাম):


01. Ewing's sarcoma, 02. Osteosarcoma, 03. Chondrosarcoma, 04. Rhabdomyosarcoma, 05. Heart cancer


মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র ক্যান্সার:


01. Astrocytoma, 02. Ependymoma 03. Oligodendroglioma, 04. Glioma, 05. Neuroblastoma, 06. Pilocytic astrocytoma, 07. Pituitary adenoma, 08. Pineal astrocytoma, 09. Primitive neuroectodermal tumor, 10. Brainstem glioma, 11. Medulloblastoma, 12. Cerebellar astrocytoma, 13. Cerebral astrocytoma, 14. Hypothalamic glioma


স্তন ক্যান্সার:


01. Inflammatory breast cancer, 02. Invasive cribriform carcinoma, 03. Invasive lobular carcinoma, 04, Tubular carcinoma, 05. Male breast cancer, 06. Phyllodes tumor, 07. Medullary carcinoma, 08. Breast cancer


অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতন্ত্র ক্যান্সার:


01. Adrenocortical carcinoma, 02. Thyroid cancer, 03. Pancreatic neuroendocrine tumor (islet cell carcinoma), 04. Parathyroid carcinoma, 05. Pheochromocytoma, 06. Multiple endocrine neoplasia, 07. Merkel-cell carcinoma


চোখ ক্যান্সার:

01. Uveal melanoma, 02. Retinoblastoma


পরিপাকতন্ত্র ক্যান্সার:


01. Pancreatic cancer, 02. Appendix cancer, 03. Carcinoid (digestive tract), 04. Cholangiocarcinoma, 05. Gastrointestinal stromal tumor, 06. Stomach cancer, 07. Anal cancer, 08. Gallbladder cancer, 09. Colon cancer, 10. Hepatocellular carcinoma


জেনিটুরিনারি বা যৌন ও মূত্রসংক্রান্ত এবং স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত ক্যান্সার:


01. Uterine sarcoma, 02. Wilms’ tumor or nephroblastoma, 03. Extragonadal germ cell tumor, 04. Endometrial cancer, 05. Ovarian germ cell tumor, 06. Cervical cancer, 07. Gestational trophoblastic disease, 08. Testicular cancer, 09. Ovarian cancer, 10. Penile cancer, 11. Prostate cancer, 12. Kidney cancer, 13. Vulvar cancer, 14. Ureteral and renal epithelial or transitional cancer, 15. Bladder cancer, 16. Bladder cancer, 17. Vaginal cancer, 18. Renal pelvis and ureter, transitional cell cancer, 19. Renal cell cancer, 20. Surface epithelial-stromal tumor or Epithelial cancer of the ovary


মাথা ও ঘাড় ক্যান্সার:

01. Esophageal cancer, 02. Oropharyngeal cancer, 03. Nasopharyngeal carcinoma, 04. Paranasal sinus and nasal cavity cancer, 05. Pharyngeal cancer, 06. Head and neck cancer, 07. Oral cancer, 08. Salivary gland cancer, 09. Hodopharyngeal cancer


হেমাটোপোইটিক বা রক্ত সম্পর্কিত ক্যান্সার:


01. Anaplastic large cell lymphoma, 02. Intravascular large B-cell lymphoma, 03. AIDS-related lymphoma, 04. Acute eosinophilic leukemia, 05. Acute biphenotypic leukemia, 06. Acute myeloid leukemia, 07. Acute lymphoblastic leukemia, 08. Angioimmunoblastic T-cell lymphoma, 09. MALT lymphoma or mucosa-associated lymphoid tissue lymphoma, 10. Cuneiform T-cell lymphoma, 11. Chronic myelogenous leukemia, 12. Chronic lymphocytic leukemia, 13. T-cell prolymphocytic leukemia, 14. Diffuse large B cell lymphoma, 15. Non-Hodgkin lymphoma, 16. Nodal marginal zone B cell lymphoma, 17. Primary effusion lymphoma, 18. Primary cutaneous immunocytoma, 19. Primary cutaneous follicle center lymphoma, 20. Primary mediastinal (thymic) large B-cell lymphoma or mediastinal large B-cell lymphoma, 21. Primary central nervous system lymphoma, 22. Precursor B-cell lymphoblastic leukemia, 23. Plasmablastic lymphoma, 24. Follicular lymphoma, 25. Burkitt's lymphoma, 26. B-cell prolymphocytic leukemia, 27. B-cell blastic Plasmacytoid dendritic cell, 28. Neoplasm, 29. Waldenstrom's macroglobulinemia or lymphoplasmacytic lymphoma, 30. Mycosis fungoides, 31. Myelodysplastic syndrome, 32. Marginal zone B-cell lymphoma, 33. Multiple myeloma or plasma cell neoplasm, 34. Mast cell leukemia, 35. Mantle cell lymphoma, 36. Large granular lymphocytic leukemia, 37. Lymphomatoid granulomatosis, 38. Sjögren's disease, 39. Splenic marginal zone lymphoma, 40. Hodgkin's lymphoma, 41. Hepatosplenic T cell lymphoma, 42. Hairy cell leukemia


ত্বকে ক্যান্সার:


01. Skin cancer (includes cancers other than melanoma), 02. Basal cell carcinoma, 03. Melanoma (the most common skin cancer), 04. Squamous cell carcinoma


বক্ষ ও শ্বসনতন্ত্র ক্যান্সার:


01. Bronchial adenoma or carcinoid, 02. Pleuropulmonary blastoma, 03. Lung cancer, 04. Small cell carcinoma of the lung, 05. Mesothelioma, 06. Thymoma and thymic carcinoma, 07. Laryngeal cancer


এইচআইভি বা এইডস সম্পর্কিত: 01. AIDS-related cancer, 02. Kaposi's sarcoma


এখন পর্যন্ত অবাছাইকৃত:


01. Epithelioid hemangioendothelioma, 02. Desmoplastic tumor of small round cells Liposarcoma


সার সংক্ষেপ: 01. Sarcoma: পেশী. হাড়, তরুণাস্থি (কার্টিলেজ), চর্বি, পেশী এবং অন্যান্য নরম টিস্যুতে ঘটে।

02. Lymphoma Leukemia, Lyphoma: লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম বা লসিকা গ্রন্থির ক্যান্সার, যেখানে লিম্ফোসাইট (এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা), রক্তকণিকা, বিশেষ করে শ্বেত রক্তকণিকার অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটে।

03. Carcinoma, Maligant, Myeloma, Adenocarcinoma, Melanoma: শরীরের ত্বক, অঙ্গের আস্তরণ, এবং অঙ্গ যেমন ফুসফুস, স্তন, প্রোস্টেট, কোলন, ত্বকের ক্যান্সার, যা মেলানোসাইট নামক ত্বকের কোষ থেকে শুরু হয়।

04. Brain and spinal cord tumors, Metastatic tumors (secondary tumors): বিভিন্ন ধরনের টিউমার মস্তিষ্কে বা মেরুদণ্ডে হতে পারে, যা বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। শরীরের যে অংশে ক্যান্সার প্রথম শুরু হয়। মেটাস্ট্যাটিক টিউমার (সেকেন্ডারি টিউমার)


০২। কিডনি রোগকে Kidney disease


কিডনি রোগকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: আকস্মিক কিডনি বৈকল্য (Acute Kidney Injury) এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease)। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ আবার কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী পাঁচটি ধাপে বিভক্ত, যেখানে কিডনি ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায় এবং শেষ পর্যন্ত কিডনি ফেইলিওর-এ পৌঁছাতে পারে।

কিডনি রোগের প্রধান ভাগগুলো

আকস্মিক কিডনি বৈকল্য (Acute Kidney Injury - AKI), দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease - CKD), দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের পর্যায় (Stages of CKD)

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগকে কিডনির কার্যকারিতা অনুযায়ী পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়:

পর্যায় ১-৩: এই প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি এখনও রক্ত থেকে বর্জ্য ফিল্টার করতে পারে, যদিও কার্যক্ষমতা কিছুটা কমে যায়।

পর্যায় ৪-৫: এই পরবর্তী পর্যায়ে কিডনির ওপর চাপ বাড়ে এবং কিডনি পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, যাকে কিডনি ফেইলিওর বলা হয়। এই পর্যায়ে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।


০৩। লিভারের সিরোসিস (Cirrhosis of the liver)

লিভার সিরোসিস হলো যকৃতের এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেখানে যকৃতের সুস্থ কোষগুলি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শক্ত দাগ টিস্যু (scar tissue) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যার ফলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা কমে যায় এবং এটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপান এবং দীর্ঘস্থায়ী লিভারের প্রদাহ বা রোগ যেমন হেপাটাইটিস বি বা হেপাটাইটিস সি উল্লেখযোগ্য

লিভার সিরোসিসের প্রধান ভাইরাসগত কারণ হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাস (HCV)। এই ভাইরাসগুলো দীর্ঘস্থায়ীভাবে লিভারে সংক্রমণ ঘটিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা সময়ের সাথে সাথে লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত সিরোসিস বা যকৃতের ক্ষতের কারণ হয়।

ভাইরাসগুলো কীভাবে কাজ করে: হেপাটাইটিস বি (HBV): এই ভাইরাসটি লিভারকে আক্রমণ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। হেপাটাইটিস সি (HCV): হেপাটাইটিস সি ভাইরাসও লিভারে সংক্রমণ ঘটায় এবং দীর্ঘস্থায়ীভাবে লিভারের ক্ষতি করতে পারে, যা সিরোসিসের দিকে নিয়ে যায়।

অন্যান্য কারণ: ভাইরাস ছাড়াও লিভার সিরোসিসের অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

অতিরিক্ত মদ্যপান ফ্যাটি লিভার: (NAFLD/MASH), Autoimmune hepatitis পিত্ত নালী রোগ

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কিছু ব্যাধি

সুতরাং, ভাইরাস জনিত কারণগুলির মধ্যে প্রধান হলো হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস।


০৪। স্ট্রোকে প্যারালাইসিসের (Paralysis in stroke)


স্ট্রোকের কারণে হওয়া পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের মূল ভাগ হলো শরীরের প্রভাবিত অংশের ওপর নির্ভর করে, যেমন হেমিপ্লেজিয়া (শরীরের একপাশ, সাধারণত একটি হাত ও পা)। এছাড়া, শরীরের কতটুকু অংশ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত, তার ওপর নির্ভর করে পেরিফেরাল প্যারালাইসিস (হাত বা পা) এবং প্রোপ্রিওসেপটিভ প্যারালাইসিস (শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অনুভূতি বা অবস্থানগত সমস্যা) হতে পারে।

০১। স্ট্রোকের পর পক্ষাঘাতের সাধারণ ধরণ: হেমিপ্লেজিয়া (Hemiplegia), ০২। পেরিফেরাল প্যারালাইসিস (Peripheral Paralysis) ০৩। প্রোপ্রিওসেপটিভ প্যারালাইসিস (Proprioceptive Paralysis):

০৫। জন্মগত হৃদরোগ (Congenital heart disease)

জন্মগত হৃদরোগ (Congenital heart disease) : জন্মগত হৃদরোগ হলো হৃৎপিণ্ড বা তার কাছাকাছি থাকা বড় রক্তনালীর একটি গঠনগত ত্রুটি যা জন্মের সময়ই বিদ্যমান থাকে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

জন্মগত হৃদরোগকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: সায়ানোটিক (Cyanotic) হৃদরোগ, অ্যাকানোটিক (Acyanotic) হৃদরোগ, ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট (VSD): হৃৎপিণ্ডের দুটি নীচের প্রকোষ্ঠ (Ventricle) এর মাঝের দেওয়ালে একটি ছিদ্র থাকা, পালমোনারি ভালভ স্টেনোসিস (Pulmonary valve stenosis), ফুসফুসের দিকে রক্ত সরবরাহকারী ভালভটি সংকীর্ণ হয়ে যায়। ডান ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি (Right ventricular hypertrophy), হৃৎপিণ্ডের ডান প্রকোষ্ঠের পেশী পুরু হয়ে যায়। Transposition of the Great Arteries, Overriding aorta


০৬। থ্যালাসেমিয়া Thalassemia


থ্যালাসেমিয়া (ইংরেজি: Thalassemia) একটি অটোজোমাল মিউট্যান্ট প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত রক্তের রোগ। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহণকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেনস্বল্পতা বা “অ্যানিমিয়া”তে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবসাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি ঘটতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে: ১) আলফা থ্যালাসেমিয়া Alpha thalassemia (ক.Alpha thalassemia major, খ. Alpha thalassemia minor ২) বিটা থ্যালাসেমিয়া Beta thalassemia (ক. Thalassemia major , খ. Thalassemia minor) সাধারণভাবে আলফা থ্যালাসেমিয়া, থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়া বিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির হয়ে থাকে। অন্যদিকে বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি; এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমত চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।


থ্যালাসেমিয়া প্রধানত আলফা থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া এই দুটি ভাগে বিভক্ত। এই ভাগগুলো হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আলফা ও বিটা প্রোটিনগুলোর মধ্যে কোনটিতে সমস্যা হয় তার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। ০১। আলফা থ্যালাসেমিয়া (Alpha Thalassemia), ০২। বিটা থ্যালাসেমিয়া (Beta Thalassemia)

এই রোগটি আবার অসুস্থতার তীব্রতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করা হয়, যেমন: বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর। ডেল্টা বিটা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম

বিশ্বে বিটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। আলফা থ্যালাসেমিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের সর্বত্র এবং কখনও কখনও ভূমধ্যসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের লোকদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ লক্ষ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।


ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা নীতিমালা-২০১৯

ফাইল ১
ফাইল ২

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ১

ডাউনলোড করুন

ফাইল প্রিভিউ ওয়েব ব্রাউজারে সমর্থিত নয়

ফাইল ২

ডাউনলোড করুন

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন