কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৬:৫২ AM
কন্টেন্ট: পাতা
ভূমিকা:
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস) একটি সফটওয়ার প্রতিষ্ঠা করে যার নাম প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ (ডিআইএস)। প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ (ডিআইএস) এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ৩৫৪৭১৩২ জন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবন্ধিতা এবং এর কারণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে সমাজে নানা ধরনের ভুল বিশ্বাস ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে। সরকার সামগ্রিক উন্নয়ন, অধিকার ও সুরক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূল স্রোতে যুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে একটি হল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি।
পটভূমি:
বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের সমান অধিকার ও মর্যাদা দিতে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশে 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩' প্রণীত হয় ২০১৩ সালে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ হল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং সুরক্ষার জন্য একটি অনন্য দলিল। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫, ১৭, ২০ এবং ২৯ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্যান্য নাগরিকদের সমান সুযোগ ও অধিকার দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০৪১৬৬ জন প্রতিবন্ধীকে প্রতি মাসে ২০০/- টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে.৩২.৩৪ লাখে উন্নীত হয়েছে। মাসিক ভাতার হার ৮৫০/- টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৩৩২১.৭৭ কোটি টাকা। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ কার্যক্রম প্রায় ১০০% অর্জন করেছে।
প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ এবং জিটুপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে MIS (Management Information System) নামে ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে সকল উপকারভোগীদের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার নগদ ও বিকাশ এবং এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে (গভর্মেন্ট টু পারসন) ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
বাস্তবায়নকারী দফতর: সমাজসেবা অধিদপ্তর
কার্যক্রম শুরুর বছর: ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
১. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি প্রদত্ত সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিশ্রুতি পূরণ;
২. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন;
৩. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনয়ন;
৪. সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণপূর্বক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাছাইকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা প্রদান;
৫. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তকরণ।
৬. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জরিপ করে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান।
প্রতিবন্ধিতার ধরন
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত, বিকাশগত, ইন্দ্রিয়গত ক্ষতিগ্রস্ততা এবং প্রতিকূলতার ভিন্নতা বিবেচনায়, প্রতিবন্ধিতার ধরনসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(০১) অটিজম বা অটিজমস্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস (autism or autism spectrum disorders);
(০২) শারীরিক প্রতিবন্ধিতা (physical disability);
(০৩) মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা (mental illness leading to disability);
(০৪) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (visual disability);
(০৫) বাকপ্রতিবন্ধিতা (speech disability);
(০৬) বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা (intellectual disability);
(০৭) শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা (hearing disability);
(০৮) শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (deaf-blindness);
(০৯) অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা (other disability)
(১১) বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা (multiple disability);
(১০) সেরিব্রাল পালসি (cerebral palsy);
(১২) ডাউন সিনড্রোম (Down syndrome);
| ক্র:নং | প্রতিন্ধীর ধরণ | বিবরণ |
| ০১ | অটিজম বা অটিজমস্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস (Autism or autism spectrum disorders)
| যাহাদের মধ্যে নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত লক্ষণসমূহের মধ্যে দফা (ক), (খ) ও (গ) এর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে এবং দফা (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ), (জ), (ঝ), (ঞ) ও (ট) তে বর্ণিত লক্ষণসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হইবে, তাহারা অটিজম বৈশিষ্টসম্পন্ন ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:
(ক) মৌখিক বা অমৌখিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা; (খ) সামাজিক ও পারস্পরিক আচার-আচরণ, ভাববিনিময় ও কল্পনাযুক্ত কাজ-কর্মের সীমাবদ্ধতা; (গ) একই ধরনের বা সীমাবদ্ধ কিছু কাজ বা আচরণের পুনরাবৃত্তি; (ঘ) শ্রবণ, দর্শন, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ, ব্যথা, ভারসাম্য ও চলনে অন্যদের তুলনায় বেশি বা কম সংবেদনশীলতা; (ঙ) বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা বা অন্য কোন প্রতিবন্ধিতা বা খিচুনী; (চ) এক বা একাধিক নির্দিষ্ট বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতা এবং একই ব্যক্তির মধ্যে বিকাশের অসমতা; (ছ) চোখে চোখ না রাখা বা কম রাখা (eye contact); (জ) অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা উত্তেজনা, অসংগতিপূর্ণ হাসি-কান্না; (ঝ) অস্বাভাবিক শারিরীক অঙ্গভঙ্গি; (ঞ) একই রুটিনে চলার প্রচন্ড প্রবণতা; এবং (ট) সরকার কর্তৃক , সময়ে সময়ে, গেজেট নোটিফিকেশনের দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন বৈশিষ্ট্য। [ব্যাখ্যা: অটিজম মস্তিস্কের স্বাভাবিক বিকাশের এইরূপ একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা যাহা শিশুর জন্মের এক বৎসর ছয়মাস হইতে তিন বৎসরের মধ্যে প্রকাশ পায়। এই ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাধারণত শারীরিক গঠনে কোন সমস্যা বা ত্রুটি থাকে না এবং তাহাদের চেহারা ও অবয়ব অন্যান্য সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতই হইয়া থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গান করা, কম্পিউটার চালনা বা গাণিতিক সমাধানসহ অনেক জটিল বিষয়ে এই ধরনের ব্যক্তিরা বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করিয়া থাকে।] |
| 02 | শারীরিক প্রতিবন্ধিতা (physical disability) | নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘শারীরিকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা: (ক) একটি বা উভয় হাত বা পা না থাকা; বা (খ) কোন হাত বা পা পূর্ণ বা আংশিকভাবে অবশ অথবা গঠনগত এইরূপ ত্রুটিপূর্ণ বা দূর্বল যে, দৈনন্দিন সাধারণ কাজ-কর্ম বা সাধারণ চলন বা ব্যবহার ক্ষমতা আংশিক বা পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়; বা (গ) স্নায়ুবিক অসুবিধার কারণে স্থায়ীভাবে শারীরিক ভারসাম্য না থাকা। |
| 03 | মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা (mental illness leading to disability) | ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা ফোবিয়াজনিত কোন মানসিক সমস্য, যাহার কারণে কোন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হয়, তিনি মানসিক অসুস্থাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন।-সিজোফ্রেনিয়া বা অনুরূপ ধরনের কোন মনস্তাত্বিক সমস্যা, যেমন |
| 04 | দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (visual disability) | নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা: (ক) সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতা (blindness): (অ) উভয় চোখে একেবারেই দেখিতে না পারা; বা (আ) যথাযথ লেন্স ব্যবহারের পরও দৃষ্টি তীক্ষ্ণতা (visual acuity) ৬/৬০ বা ২০/২০০ এর কম; বা (ই) দৃষ্টি ক্ষেত্র (visual field) ২০ ডিগ্রী বা উহার চাইতে কম; (খ) আংশিক দৃষ্টিহীনতা (partial blindness), যথা: এক চোখে একেবারেই দেখিতে না পারা; (গ) ক্ষীণদৃষ্টি (low vision): (অ) উভয় চোখে আংশিক বা কম দেখিতে পারা; বা (আ) যথাযথ লেন্স ব্যবহারের পরও দৃষ্টি তীক্ষ্ণতা (visual acuity) ৬/১৮ বা ২০/৬০ এবং ৬/৬০ বা ২০/২০০ এর মধ্যে; বা (ই) দৃষ্টি ক্ষেত্র (visual field) ২০ ডিগ্রী হইতে ৪০ ডিগ্রীর মধ্যে।. VA= Visual Acuity চাক্ষুষ তীক্ষ্ণতা ৬/৬= ৬ মিটার বা ১০ ফুট ভালো দেখে ১/৬. ২/৬ 2. HM= Hand Movement হাতের উপস্থিতি বোঝেনা 3. NPL, No perception of light আলোর উপস্থিতি হাল্কা বোঝে 4. PLPR Perception of light and Perception of ray আলোর উপস্থিতি বোঝেনা, এসকল থাকলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে বিচেনা করা যেতে পারে। |
| 05 | বাকপ্রতিবন্ধিতা (speech disability) | নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা: (ক) একেবারেই কথা বলিতে না পারা; (খ) সাধারণ কথোপকথনে প্রয়োজনীয় শব্দ সাজাইয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্বরে স্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলায় সীমাবদ্ধতা; বা (গ) কণ্ঠনালী ও গলার স্বর বা বাক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা, জন্মগত ত্রুটি, ক্ষতিগ্রস্ততা বা সীমাবদ্ধতার কারণে শব্দ তৈরি ও উচ্চারণে সমস্যা; বা (ঘ) বাক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা, ত্রুটি বা ক্ষতিগ্রস্ততার কারণে বাধাহীনভাবে কথা বলায় সীমাবদ্ধতা, যেমন- তোতলামো। |
| 06 | বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা (intellectual disability) | নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:
(ক) বয়স উপযোগী কার্যকলাপে তাৎপর্যপূর্ণ সীমাবদ্ধতা; বা (খ) বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপে সীমাবদ্ধতা, যেমন- কার্যকারণ বিশ্লেষণ, শিক্ষণ বা সমস্যা সমাধান; বা (গ) দৈনন্দিন কাজের দক্ষতায় সীমাবদ্ধতা, যেমন- যোগাযোগ, নিজের যত্ন নেওয়া, সামাজিক দক্ষতা, নিজেকে পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, লেখাপড়া, ইত্যাদি; বা (ঘ) বুদ্ধাঙ্ক স্বাভাবিক মাত্রা অপেক্ষা কম। |
| 07 | শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা (hearing disability) | (১) শব্দের তীব্রতা ৬০ ডেসিবল এর নিম্নে হইলে শুনিতে না পাওয়া ব্যক্তি ‘শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন। (২) শ্রবণপ্রতিবন্ধিতার ধরনসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা: (ক) সম্পূর্ণ শ্রবণহীনতা (complete deafness): উভয় কানে একেবারেই শুনিতে না পারা; বা (খ) আংশিক শ্রবণহীনতা (partial deafness): এক কানে একেবারেই শুনিতে না পারা; বা (গ) ক্ষীণ শ্রবণ (hard of hearing): উভয় কানে আংশিক বা কম শুনিতে পারা বা কখনো কখনো শুনিতে না পারা। [ব্যাখ্যা:"ডেসিবেল" (Decibel) হলো শব্দের তীব্রতা বা শক্তির মাত্রা পরিমাপের একটি একক, একটি বেলের (বেল) ১০ ভাগের ১ ভাগকে এক ডেসিবেল বলা হয়।] |
| ০৮ | শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (deaf-blindness) | কোন ব্যক্তির মধ্যে একই সঙ্গে শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তির আংশিক বা পূর্ণ সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান থাকিলে এবং উহার ফলে যোগাযোগ, বিকাশ এবং শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হইলে, তিনি ‘শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন। (২) শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ধরনসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা: (ক) মাঝারি হইতে গুরুতর মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা এবং উল্লেখযোগ্য মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা; (খ) মাঝারি হইতে গুরুতর মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা, উল্লেখযোগ্য মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা ও অন্য কোন প্রতিবন্ধিতা; (গ) দৃষ্টি এবং শ্রবণ ইন্দ্রিয়গত প্রক্রিয়ায় সমস্যা; এবং (ঘ) দৃষ্টি এবং শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ততার ক্রমাবনতি। |
| ০৯ | অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা (other disability) | কোন ব্যক্তির মধ্যে যদি ধারা ৪ হইতে ১৩ তে উল্লিখিত প্রতিবন্ধিতা ব্যতীত এইরূপ অন্য কোন অস্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে যাহা তাহার স্বাভাবিক জীবন-যাপন, বিকাশ ও চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহা হইলে জাতীয় সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করিলে উক্ত ব্যক্তিও, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন। |
| ১০ | সেরিব্রাল পালসি (cerebral palsy) | (১) অপরিণত মস্তিষ্কে কোন আঘাত বা রোগের আক্রমণের কারণে যদি কোন ব্যক্তির, (ক) সাধারণ চলাফেরা ও দেহভঙ্গিতে অস্বাভাবিকতা, যাহা দৈনন্দিন কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করে; (খ) এইরূপ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ততার পরিমাণ পরবর্তীতে হ্রাস বা বৃদ্ধি না হয়; এবং (গ) উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়, তাহা হইলে তিনি ‘সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন। (২) সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধিতার বৈশিষ্ট্যসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা:— (ক) পেশী খুব শক্ত বা শিথিল থাকা; (খ) হাত বা পায়ের সাধারণ নাড়াচড়ায় অসামঞ্জস্যতা বা সীমাবদ্ধতা; (গ) স্বাভাবিক চলাফেরায় ভারসাম্যহীনতা বা ভারসাম্য কম থাকা; (ঘ) দৃষ্টি, শ্রবণ, বুদ্ধিগত বা সর্বক্ষেত্রে কম বা বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ততা; (ঙ) আচরণগত সীমাবদ্ধতা; (চ) যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা; বা (ছ) এক হাত বা দুই হাত অথবা এক পা বা দুই পা অথবা এক পাশের হাত ও পা বা উভয় পাশের হাত ও পা আক্রান্ত হওয়া। |
| ১১ | বহুমাত্রিম প্রতিবন্ধিতা | একের অধিক প্রতিবন্ধীতা হতে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধীতা বলিয়া গণ্য হবে। |
| ১২ | ডাউন সিনড্রোম (Down syndrome) | কোন ব্যক্তির মধ্যে বংশানুগতিক (genetic) কোন সমস্য, যাহা ২১তম ক্রমোসোম জোড়ায় একটি অতিরিক্ত ক্রমোসোমের উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং যাহার মধ্যে মৃদু হইতে গুরুতর মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিকতা, দুর্বল পেশীক্ষমতা, খর্বাকৃতি ও মঙ্গোলয়ড মুখাকৃতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তিনি ‘ডাউন সিনড্রোমজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন। |