কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৬:৪০ AM
পল্লী মাতৃকেন্দ্র (আরএমসি)
কন্টেন্ট: পাতা
পল্লী মাতৃকেন্দ্র (আরএমসি) কার্যক্রম
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, যাদের অধিকাংশই পল্লী অঞ্চলে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত। এ সকল নারীদের ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি তথা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ হতে পল্লী মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অনগ্রসর, বঞ্চিত, দরিদ্র ও সমস্যাগ্রস্ত নারীদের সংগঠিত করে পরিবার ভিত্তিক দারিদ্র্যতা হ্রাস করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের গ্রাম এলাকার লক্ষ্যভুক্ত নিম্ন আয়ের অনগ্রসর দরিদ্র নারীদের সংগঠিত করে তাদের নিজস্ব পুঁজি গঠন করা হয়। শুধুমাত্র জন্মদানে সক্ষম নারীদের অংশগ্রহণে পল্লী মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার ৪৯৫ টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। পল্লী মাতৃকেন্দ্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামের দরিদ্র নারীদের ছোট পরিবার গঠনের উপকারিতা, বয়স্ক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, মা ও শিশুযত্ন সম্পর্কে অবহিত এবং উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, সঞ্চয় সৃষ্টি ও অর্থকরী লাভজনক কর্মকান্ডের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা। এ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক সদস্যকে ১০,০০০/- থেকে ৫০,০০০/- পর্যন্ত সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়।বিতরনকৃত ক্ষুদ্রঋণ ৫% সার্ভিস চার্জসহ সমান ১০টি কিস্তিতে সর্বোচ্চ ১ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধযোগ্য।
উদ্দেশ্য:
দরিদ্র নারীদের সংগঠিত করে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা;
দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন;
সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি;
পরিকল্পিত পরিবার তৈরিতে সহায়তা প্রদান;
কার্যক্রম বাস্তবায়ন অগ্রগতির পরিসংখ্যানঃ ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছর পর্যন্ত
মাতৃকেন্দ্রের সংখ্যা: ১১০৬৩ টি
আওতাভুক্ত ইউনিয়ন সংখ্যা: ৪৩২২টি
আওতাভুক্ত গ্রামের সংখ্যা: ১১০৬৩ টি
ক্ষুদ্রঋণ হিসেবে প্রাপ্ত তহবিল: ১৬৫.৯৬৭০ কোটি টাকা
বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ: ১৪১ কোটি টাকা
পুন:বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ: ২৬৩.৬৬১৮ কোটি টাকা
আদায়কৃত সার্ভিস চার্জ: ২৯.৩০৫১ কোটি টাকা
দলীয় সঞ্চয়ের পরিমাণ: ৫.০৯ কোটি টাকা
বিতরণকৃত অর্থ আদায়ের হার: ৮৮%
উপকৃত পরিবার সংখ্যা: ১৩ লক্ষ ২৪ হাজার পরিবার
কার্যক্রম বাস্তবায়ন অগ্রগতির পরিসংখ্যানঃ ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছর
বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ; যেমন: পরিবার পরিকল্পনা, বাড়ীর আঙ্গিনায় সব্জিচাষ, সামাজিক বনায়ন, নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, পুষ্টি সচেতনতা, পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভবতী মায়ের যত্ন, শিশুদের টিকা দান, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন ও যৌতুক বিরোধী সচেতনতা, মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার রোধ, শিশুদের স্কুলে প্রেরণ ইত্যাদি
বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান;
ক্ষুদ্রঋণ প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত আবেদন পত্রে আবেদন;
আর্থ সামজিক উন্নয়নে উপযুক্ত ঋণ গ্রহীতা নির্বাচন;
চুক্তি সম্পাদন;
সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান;
নিজস্ব পুঁজিসহ সংগঠন তৈরিতে সহযোগিতা।
নাগরিকগণের সহযোগিতার ক্ষেত্র:
সুবিধাভোগী কর্তৃক ঋণ প্রাপ্তির ২ মাস পর হতে সমান ১০ কিস্তিতে অথবা স্কীম ভেদে ১, ২ বা ৩ কিস্তিতে ঋণের অর্থ শতকরা ৫ ভাগ সার্ভিসচার্জসহ ফেরত দেয়া;
দলীয় সদস্য কর্তৃক নিয়মিত নির্ধারিত হারে সঞ্চয় করা;
কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্যদের যে সকল বিষয়ে সচেতন করা হয় তা মেনে চলা;
কোন সুবিধাভোগী প্রাপ্ত ঋণের অর্থ নিয়মমত পরিশোধ না করলে তা আদায়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা;
সঠিক গ্রাম/মহল্লা ও উপযুক্ত ঋণ গ্রহীতা নির্বাচনে কর্তৃপক্ষকে তথ্য সরবরাহ ও সহযোগিতা;
ঋণ প্রদানে কোন অসচ্ছতা পরিলক্ষিত হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট অবহিত করা।
সেবা প্রদানের সময়সীমা:
১ম বার ঋণ প্রদান: গ্রাম/মহল্লা নির্বাচনের পর ১ মাস;